জাতীয় জীবনে টেলিভিশন

জাতীয় জীবনে টেলিভিশন

তথ্য ও প্রযুক্তি

টেলিভিশন বিংশ শতাব্দীর একটি বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। এ যন্ত্রের সাহায্যে মানুষ ঘরে বসে দূর-দূরান্তে কোনো ঘটনার ছবি ও বানী একই সঙ্গে দেখতে ও শুনতে পারে।বর্তমান বিশ্বে টেলিভিশন চিন্তাভাবনা চিত্তবিনোদনের সবচেয়ে সাধারণ মাধ্যম। প্রতিদিন অসংখ্য চ্যানেলে বিভিন্ন ধরনের আনন্দদায়ক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

টেলিভিশন কী

ইংরেজী’Television শব্দটি গ্রিক ‘ Tele’অর্থ্যৎ দূর এবং ল্যাটিন ‘Vision’অর্থ্যৎ দৃশ্য শব্দ দুটির সংযোগ তৈরি হয়েছে।’টেলিভিশন ‘ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো ‘দূরদর্শন’।প্রকৃতপক্ষে টেলিভিশন হচ্ছে একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র। এর সম্মুখভাবে একটি Screen ‘বা পর্দা থাকে।এতে সবাক চলচ্চিত্র (Moving Picture) দেখা যায়।

টেলিভিশনের ব্যবহার

আমাদের দেশে টেলিভিশন চালু হয়েছে প্রায় ৪৫ বছর আগে।প্রথম পর্যায়ে ঢাকা ও পার্শ্বাবতী এলাকাগুলো মধ্যে টেলিভিশন প্রচার সীমাবদ্ধ ছিল।এখন চট্টগ্রাম, খুলনা,ব্রাক্ষণবাড়ীয়া,সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া প্রভৃতি স্হানে উপকেন্দ্র স্থাপিত হওয়ায় সমস্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।খবর,সিনেমা, নাটক, গান,কথিকা,ধর্মীয় অনুষ্ঠান,হাসি,কৌতুক, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, রম্য কথকতা,বির্তক প্রতিযোগিতা,সাহিত্য অনুষ্ঠান, শিশুদের জন্য নানাবিধ অনুষ্ঠান,ইত্যাদি বি.টি.ভি প্রচার করে থাকে।এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন কার্যাবলিও সরকার টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করে থাকেন।

জাতীয় জীবনে টেলিভিশন

টেলিভিশনের মাধ্যমে সরকার দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্হা,নিরক্ষরতা দূরীকরণ, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি ব্যবস্হা ইত্যাদি সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে থককে।জনগণ ও জাতীয় সমস্যা ও সমাধান সম্পর্কে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হয়ে সচেতন হয়ে ওঠতে পারে।আমাদের দেশের টেলিভিশন যেহেতু সরকারের নিয়ন্ত্রণাধিন,সে কারনে সরকারের কর্মতৎপরতা ও দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সরকারি দলের ভূমিকা জনগণকে অবহিত করার ব্যাপারে টেলিভিশনকে মুখপাত্রে ভূমিকা পালন করতে হয়।

সংবাদ মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন

দেশ ওবিদেশ প্রতিনিয়ত যেসব নিত্য নতুন ঘটনা ঘটেছে, তা জানার অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো টেলিভিশন। স্যাটেলাইট চ্যারেলের বদৌলতে টেলিভিশন এখন ২৪ ঘন্টা তথ্য -প্রদান সক্ষম। বিশ্ব ব্যাপী গণযোগাযোগের স্যাটেলাইট যুগে বিশ্ব পরিনত হয়েছে Global Villages বা বৈশ্বিক গ্রামে বিশ্ব ব্যাপী গণযোগাযোগের জাল বিস্তারে টেলিভিশন পালন করেছে অনন্য ভূমিকা।

বিনোদন মাধ্যম হিসেবে টেলিভিশন

টেলিভিশন গতিময় কর্মকান্ডের মধ্যে এনে দেয় দু,দন্ড বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ। এত বৈচিত্র না থাকলে সংগীত, নৃত্য, নাটক, চলচ্চিত্র, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি উপভোগের সুযোগ আমাদের টেলিভিশনে রয়েছে। টেলিভিশনের সুবাদেই আমরা কেলার মাঠের হুজুগে ভিড়ে শামিল না হয়েও বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খেলা ঘরে বসে দেখতে পারি।সিনেমা হলে না গিয়ে ও ঘরে বসে নানা চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারি।

কৃষি উন্নয়ন টেলিভিশন

বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ লোক কৃষির ওপর নির্ভরশীল।কিন্তু বাংলাদেশের গ্রামীন কৃষকরা অশিক্ষিত হওয়ায় তারা বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে অঙ্গ। এক্ষেত্রে টেলিভিশন সাহায্যে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের মাধ্যমে কৃষিকাজের বিভিন্ন দিক যেমন–– জমি চাষ,বীজ সংগ্রহ করা,পরিমাণ মতো কীটনাশক ও সার ব্যবহার করা,সময়মতো সেচ দেওয়া ইত্যাদি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করা যেতে পারে।

জাতীয় জীবনে টেলিভিশন উপকারিতা

একবিংশ শতাব্দীর দ্বারাপ্রান্তে বর্তমান বিশ্বের টেলিভিশনের যে কতটা প্রয়োজন রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।টেলিভিশনেকে বাদ দিয়ে আজকের দুনিয়াকে কল্পনাই করা যায় না।টেলিভিশন হলো আনন্দের উৎস ও শিক্ষার মাধ্যম। টেলিভিশনের মাধ্যমে যে কোনো বক্তব্য সহজে দর্শক শ্রেণির কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব।

অপকারিতা

টেলিভিশনের গুরুত্ব অত্যধিক।তবে তার একটা উল্টো দিকও আছে।স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে কিছু বিদেশি অপশক্তি তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে ছিন্নমূল করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত। তারা কুরুচিপূর্ণ এবং স্হূল বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে দেশের তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক অধঃপতন ও সামাজিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিতে আগ্রহী বিভিন্ন বহু জাতীক কোম্পানি মুক্ত বাজার অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে স্যাটেলাইট চ্যানেলে সিগারেটসহ নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর পণ্যের বিজ্ঞান প্রচারে ব্যস্ত।তাদের উদ্দেশ্য দেশীয় পন্য ও কুটির শিল্প ধ্বংস করে এদেশে তাদের পণ্যের একচেটিয়া বাজার তৈরি করা।এসব ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থরক্ষায় সতর্কতামূলক কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার।

 

জগতের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই ভালো মন্দ দুটো দিক রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হবে হবে ভালো দিকগুলো গ্রহণ করা এবং মন্দ দিকগুলোকে পরিহার করা।আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে জাতীয় পুনর্জাগরণ ও অগ্রগতি স্বার্থে টেলিভিশন শিক্ষা– সংস্কৃতি ও উন্নয়নমুখী রাজনীতির মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।জাতির নৈতিক চরিত্রের গঠনমূলক উত্তরণ ঘটনোর ক্ষেত্রে টেলিভিশনকে আমরা কার্যকর বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে পারি।।

3 thoughts on “জাতীয় জীবনে টেলিভিশন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *